সাদা কাপড়ি (পর্ব–১১): আয়নাহীন ঘর-২
✍ সালমান আহমদ ইলিয়াস
(১১)
রাত গভীর। ঘর নিস্তব্ধ। শুধু হাসানের নিঃশ্বাসের অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছে। তার গা এখনও জ্বলছে, মুখটাও কেমন যেন বদলে যাচ্ছে—চেনা হাসানের মাঝে আর কিছুটা অন্য কেউ।
মনীষা, রাতুল আর রিপা মিলে ‘আয়নাহীন ঘর’ খুঁজছে। তারা বাড়ির পুরোনো গুদামে গিয়ে খেয়াল করে—ওখানে একটা ছোট্ট ঘর, যেখানে কোনও আয়না নেই। ঘরের দেয়ালও কেমন ছোপ ছোপ দাগে ভরা।
এই আয়নাহীন ঘর সুন্দরবনের জমিরবাড়ির আয়নাহীন ঘর নয়। জালাল উদ্দিনের বর্ণনা তার নিজ বাড়িতে ঐ আয়নাহীন ঘর থেকে বড় আয়নাহীন ঘর আছে। পরিকল্পনা সব এইটা নিয়েই তার করা ছিল। কিন্তু কেমনে জানি পরিবর্তন হয়ে অন্য জায়গায় জমিদার বাড়ির দিকে ঘটনা গিয়ে তার পরিকল্পনার বাহিরে চলে যায়। এই বাড়িতেই হাসান বারান্দায় সাদা কাপড়ি দেখেছিলো।
জালাল উদ্দিন বলল,
—এই ঘরটা আসলে আমার দাদার সময়ের। ওখানে এক আত্মা আটকে ছিল বলে শুনেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, ওই গুজব কাজে লাগিয়ে রিপার বাবাকে শাস্তি দেবো… কিন্তু এখন নিজের ফাঁদেই নিজেই আটকা পড়ে গেছি, এক ছেলের জন্য পরিকল্পনা সাজিয়ে আরেক ছেলে হারাতে বসেছি। তোদের ফুপু কে বলেছি শাহীন কে এক জায়গায় কয়েক দিনের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি, এই মিথ্যা কতদিন থাকবে সত্য হিসেবে।
হঠাৎ রিপা একটা পুরনো কাঠের দরজা ঠেলে খোলার সময় আর্তনাদ করল। দেয়ালের একটা অংশে আয়নার মতো চকচকে ধাতব পাট ছিল। তাতে দেখা গেল—তিনটা ছায়া।
তিনজনই চমকে উঠল। তারা তো মাত্র তিনজন! তাহলে তৃতীয় ছায়াটা কার?
রাতুল ফিসফিস করে বলল,
—এটা তো হাসানের মুখ না… এটা… এটা কার?
এক মুহূর্তে ধাতব পাট ফেটে গেল, আর ঘরের ভিতর থেকে শীতল বাতাস বের হলো। বাতাসের সঙ্গে এক নারীকণ্ঠ—
—তোমরা ভেবেছিলে আমি ফাঁদে পড়েছি? আমি তো তোমাদের ছায়ায় ঢুকে গেছি…
জালাল উদ্দিন তাদের টেনে বাইরে নিয়ে এল, দরজা বন্ধ করে ফেলল।
—এই ঘরটাই তার দরজা, আর এই আয়নাটাই ছিল তার শেষ দুর্বলতা।
মনীষা বলল,
—তবে কি এখন সাদা কাপড়ি আমাদের ছায়ায় ঢুকে গেছে? সে আমাদের ভেতরেই আছে?
জালাল উদ্দিন মাথা নিচু করে বলল,
—আমার প্রতিশোধের খেলা আজ আমাদের সবাইকে বিপদের মুখে ফেলেছে। আমি শুধু আমার ছেলেকে হারানোর বদলা নিতে চেয়েছিলাম।
রিপা চোখ বড় করে তাকিয়ে বলল,
—ছেলেকে? আপনি তো কখনো কিছু বলেননি! বিষয়টা খুলাসা করলে অবশ্যই সমাধান পেতেন।
জালাল উদ্দিন চুপ করে যায়।
আর তখনই জানালার পাশে হাসান ফিসফিস করে বলে উঠল,
—সে মারা যায়নি… ওকে কেবল টেনে নেওয়া হয়েছিল…
চলবে…
সাদা কাপড়ি (পর্ব–১২): আগুনের পুতুল
✍ সালমান আহমদ ইলিয়াস
(১২)
ঘরজুড়ে নেমে এসেছে এক অদ্ভুত নীরবতা। জানালার কাঁচে কুয়াশা জমে থাকলেও ভিতরটা যেন ধীরে ধীরে ঠান্ডা নয়, উল্টো গরম হয়ে উঠছে। হাসানের চোখে আগুন, আর ঠোঁটে এক রহস্যময় হাসি।
দীর্ঘ সময় কথা বলার পর জালাল উদ্দিনের কণ্ঠটা ধীরে ধীরে থেমে গেল। সে মাটির দিকে তাকিয়ে বলল—
— আমি বুঝিনি, সত্যি সত্যিই কিছু এমন ঘটনা ঘটবে। হাসানকে সামান্য অসুস্থ করতে বলেছিলাম, ও এখন মরার মতো অবস্থায়। রিপার বাবা নিখোঁজ। মাঝিও হাওয়া।
মনীষা বলল,
— আপনার এই কাজটা করার আগে এর পরিণতি অন্তত ভেবে নেওয়া উচিত ছিল ফুপা।
— ঠিক বলেছো মা, আমার মনে হচ্ছে কেউ আমাকে এমনটা করতে বাধ্য করেছে। কেননা আমি তো এমন করার মানুষ নই।
রাতুল বলেছিল আপনার কাগজ চিঠির শেখা এবং রিপার বক্সের চিঠি সব এক ব্যক্তির লেখা এবং তার লেখা সে দেখেছে কিন্তু মনে হচ্ছে না। আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, ঐ লেখাটা ঐ মাঝি বৃদ্ধের যে আমাদের সাথে জমিদার বাড়িতে ছিল, এ বাড়িতেও ছিল, আমাদের কবরস্থানেও নিয়ে গিয়েছিল।
জালাল উদ্দিন অবাক হয়ে
— বলো কী? তাহলে হয়তো ঐ ব্যক্তি আমার অগোচরে আমাকে বুঝিয়েছে ঐ কাগজ বা চিঠির লেখা বাস্তব এবং আমার ছেলের ঘটনার। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সব তার স্ক্রিপ্টেড ছিলো। এমন হয়তো আমার বাড়ির লোকও তার সাথে জড়িত আছে।
হঠাৎ হাসান উচ্চস্বরে কাঁপা গলায় বলে উঠল,
—আমার শরীর… গলছে… কেউ একটা আমার ভেতরে কথা বলছে!
তার চোখ দুটো ধীরে ধীরে লাল থেকে আগুনের মতো হলুদ হতে শুরু করল।
হঠাৎ পেছনের দরজায় টোকা পড়ল।
সবাই চমকে তাকাল।
টোকা পড়ছে ধীর… ধ্বনিময়… ঠিক যেন কেউ নিজের নখ দিয়ে দরজার গায়ে আঁচড় কেটে বলছে—
“আমার পুতুল কে নিয়েছে…”
হাসান হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—
—ও বলছে আমি তার… আগুনের পুতুল…
জালাল উদ্দিন চিৎকার করে বলল,
—তালা লাগাও! কেউ দরজা খুলবে না!
তবে তখনই দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।
অন্ধকারে এক নারীমূর্তি দাঁড়িয়ে। তার সারা শরীর সাদা কাপড়ে ঢাকা, কিন্তু মুখটা… অদ্ভুতভাবে ধোঁয়াচ্ছন্ন।
সে বলল,
—আমি ফিরে এসেছি। এবার কেউ পালাতে পারবে না…
চলবে…
সাদা কাপড়ি (পর্ব–১৩): ছায়ার ভিতরে
✍ সালমান আহমদ ইলিয়াস
(১৩)
হাসানের শরীর কাঁপছে। সে যেন নিজের সত্তাকে ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সাদা কাপড়ি তার দিকে এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে—চোখে নেই পুতুলের মতন স্থিরতা, কিন্তু তার ছায়া ঘরের দেয়ালে নড়ছে না।
জালাল উদ্দিন সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
—তুই কি চাস হাসানকে? কেন?
সাদা কাপড়ির কণ্ঠ ছিল কেমন খালি গলার… ধোঁয়ার মত মৃদু ফিসফিস:
—কারণ সে আগুনে ছোঁয়া পেয়েছে… আমি ওর ভেতরেই বাসা বানিয়েছি…
মনীষা ফিসফিস করে রিপার কানে বলল,
—ও বলছিল ‘আগুনের চিহ্ন’। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, “যাকে সে ছোঁবে, তার দেহ হবে আশ্রয়”…
হঠাৎ জানালার পাশে রাখা আয়নার টুকরোতে সাদা কাপড়ির মুখ প্রতিবিম্বিত হলো—আর সেই মুখ মানুষের নয়, যেন আগুনে গলে যাওয়া মাটির পুতুল।
সাথে সাথেই সাদা কাপড়ি থেমে গেল, আর্তনাদ করে পিছিয়ে গেল দরজার দিকে।
সে গর্জে উঠল,
—আয়না সরাও… ওটা আমাকে পোড়ায়!
রাতুল চিৎকার করে বলল,
—ও আয়নায় দুর্বল! আয়নাহীন ঘরই ছিল ওর দখলের জায়গা!
জালাল উদ্দিন তাদের পেছন থেকে ঠেলে বলল,
—তোমরা ওকে ঘিরে ফেলো আয়না দিয়ে, আমি রিপার বাবাকে কে খুঁজে আনবো। আমি অনেক বড় ভুল করেছি… কিন্তু আজ আমি পালাব না।
সে ছুটে বেরিয়ে গেল। আর তখনই হাসান চিৎকার করে উঠল—
—রিপার বাবা আমি ওনার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি! ওনাকে… কোথাও নিচে আটকে রেখেছে…
সবাই চমকে তাকাল।
বৃদ্ধ মাঝির ঘর! হ্যাঁ, পুরনো সেই ঘরের নিচে ছিল একটা মাটির বদ্ধ গুদাম। সেখানে সবাই ছোটে। ঐ বৃদ্ধ মাঝি লোকটি এখানে থাকতো। যদি এখন সে এই ঘটনাগুলোর পর থেকে হাওয়া হয়ে গেছে।
গুদামের দরজা খোলা ছিল না, কিন্তু এক অদ্ভুত গন্ধ বের হচ্ছিল—জ্বলন্ত তুলসীপাতার মত।
তারা ভিতরে ঢুকতেই দেখতে পেল—
রিপার বাবা অচেতন অবস্থায় বাঁধা। চারদিকে আগুনের গোল দাগ—ঠিক যেন কবরস্থানে দেখা আগুনের প্রতীক।
হাসান ধীরে ধীরে ভিতরে এল।
তার চোখে জল। সে বলল,
—আমি… আমার শরীরে এখনো ও আছে… কিন্তু আমি জানি কী করতে হবে…
সে রিপার বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
—আপনাকে কিছুক্ষণ এখানেই থাকতে হবে… আমি তাকে বাইরে টানব…
আর ঠিক তখনই সাদা কাপড়ি চিৎকার করে নেমে এল ঘরের দরজায়!
সে গর্জে উঠল,
—আমার ছায়া ছাড়া কাউকে বাঁচতে দেব না!
রিপা, রাতুল, মনীষা চারপাশে আয়নার টুকরো রাখল, আর হাসান দাঁড়িয়ে গেল সেই আগুনের দাগের মধ্যে।
সে বলল,
—তুই চাস আগুন… আমি তোকে আগুন দেব। আমার দেহেই আয়!
সাদা কাপড়ি তীব্র আওয়াজে ভেতরে ঢুকল—
আর ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল লাল আলো।
চলবে…
সাদা কাপড়ি (পর্ব–১৪): আগুনের দরজা
✍ সালমান আহমদ ইলিয়াস
(১৪)
ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া লাল আলো ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে লাগল।
হাসান মাটিতে পড়ে আছে, নিঃশব্দ। তার চারপাশে ছড়ানো আয়নার টুকরো আর জ্বলে যাওয়া আগুনের গোল দাগটা কালচে ছাইয়ে রূপ নিয়েছে।
রিপার বাবা ধীরে ধীরে চোখ মেললেন। গলার স্বর কাঁপছিল:
—হাসান… সে কোথায়?
মনিষা দৌড়ে এসে হাসানের পাশে বসে। পালস খুব দুর্বল, অচেতন। শরীর ঠান্ডা। কিন্তু বেঁচে আছে।
রাতুল হঠাৎ চিৎকার করে বলল,
—সাদা কাপড়ি কোথায় গেল?
তখন রিপার বাবা চারপাশে তাকিয়ে নিচু গলায় বললেন,
—সে ফিরে গেছে… কিন্তু পুরোপুরি না। কোনো আত্মা যেটা আগুনে আটকা পড়ে, তা মরে না—সে শুধু দরজা খুঁজে বেড়ায়… আবার ফিরে আসার।
রিপা ফিসফিস করে বলল,
—তাহলে আমরা কি আবার বিপদে পড়ব?
রিপার বাবা তাকিয়ে রইলেন চুপচাপ।
ঠিক তখনই দরজায় একজনের ছায়া পড়ল।
সবাই চমকে উঠল।
জালাল উদ্দিন—ফুপুর স্বামী—চোখ লাল করে দাঁড়িয়ে আছেন।
তাঁর মুখে হতাশা আর একরাশ অপরাধবোধ।
তিনি ধীরে ধীরে বললেন,
—আমি প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম… কিন্তু এমনটা হবে কল্পনাও করিনি।
—কিন্তু আমি জানতাম না… জানতাম না, ও মাঝি আসলে ছিল না, ছিলো ধোকাবাজ! আমি ভেবেছিলাম ভয় দেখানো এক নাটক হবে… কিন্তু সাদা কাপড়ি… সত্যি ছিল!
রিপার বাবা ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
—তোমার ছেলে ছিল নিষ্পাপ। তার মৃত্যু দুর্ঘটনা, কিন্তু তাতে তুমি একজন নিরপরাধ শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলে?
জালাল উদ্দিন মাথা নিচু করল।
—আমি ভুল করেছি… আমি নিজেই মাঝির মাধ্যমে সব সাজিয়েছিলাম। কিন্তু সে মাঝি আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না… সে নিজেও ওর হয়ে কাজ করছিল!
মনিষা অবাক হয়ে বলল,
—মানে?
রিপার বাবা চোখ সরু করে বললেন,
—সেই মাঝিই ছিল আত্মার পুরাতন বাহক। প্রতিশোধের আগুনের প্রথম বাহক। জালাল উদ্দিন শুধু একটা দরজা খুলে দিয়েছিল—আসল খেলাটা সে খেলেছিল।
তখনই হাসান ফিসফিস করে উঠল—
—সে এখনো… আমার ভেতরে কিছু রেখে গেছে…
---
চলবে…
সাদা কাপড়ি (পর্ব–১৫): মাঝির ছায়া
✍ সালমান আহমদ ইলিয়াস
(১৬)
হাসান এখন পুরোপুরি জেগে উঠেছে। কিন্তু তার চোখে আগের সেই উজ্জ্বলতা নেই—এক ধরনের শূন্যতা, আর যেন নিঃশব্দে কিছু একটা ভেতরে চলতে থাকা এক যুদ্ধ।
রিপার বাবা তার কপালে হাত রাখলেন।
—তার ভেতরে এখন দুই অস্তিত্ব… একদিকে সে নিজে, অন্যদিকে আগুন থেকে আসা কিছু…
মনিষা ধীরে বলল,
—তাহলে আমরা কী করব?
তখনই দরজার বাইরে শব্দ।
জালাল উদ্দিন এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলতেই হাওয়ার এক ঝাপটা ভিতরে ঢুকে পড়ল।
দরজার ওপাশে কেউ নেই।
কিন্তু নীচে পড়ে আছে কিছুটা পুরনো কাপড়, আর তার পাশে একটা ছেঁড়া নৌকার বৈঠা।
রিপার বাবা কুঁচকে তাকালেন।
—সে ফিরে এসেছে…
রাতুল চমকে উঠল।
—কে?
—মাঝি।
এই নামটাই যেন একটা তালা খুলে দিল।
দেয়ালে হঠাৎ সাদা ছায়া ভেসে উঠল। ঘরের বাতি নিভে গেল।
আলো আসতেই তারা দেখতে পেল—হাসান নেই!
জালাল উদ্দিন দৌড়ে বাইরে গেল, বাকি সবাই পেছনে।
জালাল উদ্দিনদের বাড়ির সামনের নদীর ঘাটে একটা ছায়া বসে আছে, নৌকার মধ্যে।
রিপার বাবা ফিসফিস করে বললেন—
—এটাই সেই পুরনো বাঁধন… বুড়ির আত্মা। সে নতুন বাহক খুঁজে পাচ্ছে না, তাই পুরাতন শরীরে ফিরে গেছে।
মনিষা কাঁপা গলায় বলল—
—তাহলে হাসান…
রিপার বাবা বললেন—
—সে এখনও আছে… কিন্তু যদি এখন তাকে ফিরিয়ে না আনি, সে আর ফিরবে না।
তখনই রিপার বাবা নিজের পকেট থেকে একটা ছোটো আয়না বের করলেন। এটা বিশেষ ধরনের একটা আয়না যাতে সহজে দুষ্টু আত্মা নিষ্ক্রিয় ড়য়ে যায়।
—এই আয়নাটা ওকে দেখাতে হবে… যাতে সে নিজের ছায়াকে চিনতে পারে, বুঝতে পারে সে কে ছিল।
রিপা, রাতুল ও মনীষা কাঁদতে কাঁদতে বলল—
—আর যদি সে না চেনে?
রিপার বাবা তাকিয়ে বললেন—
—তাহলে, আর কেউ বাঁচবে না।
চলবে…
